প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত সরকার একটি নতুন ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে গ্রাহক একবার পরিচয় যাচাই করেই ব্যাংক, বীমা, মিউচুয়াল ফান্ডসহ একাধিক আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপের কিছু দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে বিদ্যমান রয়েছে।
ভারত দীর্ঘ সময় ধরে এমন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সূত্র জানায়, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকদের আর একাধিকবার একই পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে না। ফলে আর্থিক সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজতর হবে এবং লেনদেনের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি পাবে, যা জালিয়াতি কমাতে সহায়তা করবে।
সূত্রগুলোর মতে, এই বছরের শেষ নাগাদ মিউচুয়াল ফান্ড, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পুঁজিবাজার সংস্থাগুলোও এই ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করতে পারবে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই), সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) এবং বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো তাৎক্ষণিক উত্তর দেয়নি।
নিয়ন্ত্রক সূত্র ও আর্থিক খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে ভারতীয় ব্যাংক এবং বীমা কোম্পানিগুলো 'সেন্ট্রাল নো-ইয়োর-কাস্টমার ২.০' (সিকেওয়াইসি ২.০) নামে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করবে। পর্যায়ক্রমে মিউচুয়াল ফান্ড এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও এতে যুক্ত হবে।
এই ব্যবস্থায়, গ্রাহকের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে একবারই সংরক্ষণ করা হবে এবং তার সম্মতি নিয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেই তথ্য ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। এর ফলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা অথবা তথ্য হালনাগাদ করা অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।
ভারতে বর্তমানে প্রায় সকল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাই সরকার আরও বেশী সংখ্যক মানুষকে মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা এবং পেনশনের জন্য আর্থিক সেবা প্রদান করতে চায়। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতে প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা ও পেনশনে অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।
ভারতে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ কোটি গ্রাহকের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা কার্যরত আছে। কিন্তু এতে তথ্যের ভুল, একই ব্যক্তির একাধিক রেকর্ড এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে এটি পুরোপুরি কার্যক্ষম হয়নি। তাছাড়া আরবিআই এই তথ্য ব্যবহারে অস্বীকৃতি দেওয়ায় গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার একই নথি জমা দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
নতুন সিকেওয়াইসি ২.০ ব্যবস্থায় প্রতিটি তথ্যের সাথে একটি বিশ্বাসযোগ্যতা স্কোর থাকবে। এ স্কোরের মাধ্যমে বোঝা যাবে, তথ্যটি কতটা নির্ভরযোগ্য এবং কোনো প্রতিষ্ঠান সেটি যাচাই করেছে কিনা। এই তথ্য ব্যবহারের পূর্বে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওটিপির মাধ্যমে গ্রাহকের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রোটিয়ান ইগভ টেকনোলজিস-এর প্রধান কর্মকর্তা রাকেশ দোসি বলেন, নতুন স্কোরের মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজে বুঝতে পারবেন তাদের তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য। ভারতে বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান, এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের যুগ্ম প্রধান নির্বাহী ডি.পি. সিং জানান, এই ব্যবস্থা চালু হলে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রায় ৫০ কোটি গ্রাহকের অল্প একটি অংশও যদি বিনিয়োগ শুরু করে, তাহলে এর বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পরবর্তী চার মাসের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে এই ব্যবস্থা চালু হবে। অন্যদিকে ভারতের বৃহত্তম অনলাইন বীমা মার্কেটপ্লেস পলিসিবাজারের বিজনেস প্রধান পারাস পাসরিচা জানান, নতুন ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকদের তথ্য প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, বীমা কোম্পানিগুলো প্রস্তুতির কাজ করছে এবং আশা করা হচ্ছে আগস্ট মাসে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন