প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশীর পোষা কুকুরের ফেলে দেওয়া বিস্কুট খেয়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে রবিউল মিয়া (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় শিশুটির মা রুনা বেগম জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে রুনা বেগম ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত শিশুটির নাম রবিউল, যিনি কালিপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার মিজান মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন রবিউল নিজ বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। তখন প্রতিবেশী মুসা মিয়ার স্ত্রী তাদের পোষা কুকুরকে বিস্কুট খেতে দেয়। কুকুরটি অর্ধেক বিস্কুট খাওয়ার পর বাকি অংশটি ফেলে দেয়। শিশুটি অজ্ঞতাবশত সেই বিস্কুটটি কুড়িয়ে খেয়ে ফেলে। এরপর থেকেই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা জানালেন, অসুস্থ রবিউলকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে জলাতঙ্কের টিকা (ভ্যাকসিন) না থাকায় তাকে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। বুধবার (১৫ জুলাই) শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকা যাওয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় শিশুটি মারা যায়।
নিহত শিশুটির বাবা মিজান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী মুসা মিয়ার পরিবার নিয়মিত বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় তাদের পোষা কুকুরকে খাবার দিত। এ ব্যাপারে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কর্ণপাত করেনি। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে আমার শিশুসন্তানের প্রাণ গেলো। আমি দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন