প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম আবারও লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই গোষ্ঠী ‘আত্মসমর্পণ করবে না’। শুক্রবার, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
হিজবুল্লাহর আল-মানার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে কাসেম উল্লেখ করেন, ‘আমরা কাঠামোগত চুক্তির বিরোধিতা করছি এবং এটি বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবানন সরাসরি আলোচনা শুরু করে। গত জুনের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই দেশ একটি কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ওই এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু ‘পরীক্ষামূলক এলাকায়’ এই প্রক্রিয়া শুরু করার কথা রয়েছে।
কিন্তু কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ, বেআইনি, অপমানজনক এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ‘পরীক্ষামূলক এলাকা’ বা সেখান থেকে উদ্ভূত কোনো ব্যবস্থায় সম্মত নই।’ তিনি প্রস্তাবিত কোনো যাচাইব্যবস্থাও প্রত্যাখ্যান করেন।
চলতি মাসের শুরুতে রোমে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর লেবাননের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ‘পরীক্ষামূলক এলাকা’ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন তদারকির জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য দেশের একটি ‘সংক্ষিপ্ত তালিকা’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এসব এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লেবাননের সেনাবাহিনী অপসারণ করবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এর জন্য এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
জুনে বৃহত্তর সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার স্মারক এবং একই মাসে ইসরাইল-লেবানন কাঠামোগত চুক্তির পর সহিংসতা কিছুটা কমেছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে ইসরাইলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং বেসামরিক স্থাপনা ও ভবন ধ্বংসের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে জানায় লেবানন।
ইসরাইলি সেনারা সীমান্তসংলগ্ন লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত নিজেদের ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে। এর মধ্যে নাবাতিয়েহ এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় ইসরাইল হামলা বৃদ্ধি করেছে।
নাঈম কাসেম বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরাইলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে তার গোষ্ঠী সমর্থন দিয়েছিল। ওই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল আগের যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, ‘আমরা মাথা উঁচু করে থাকব এবং আত্মসমর্পণ করব না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন