প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ দিন ধরে প্রচলিত ব্যক্তি-বন্দনার রাজনীতি থেকে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।
তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা দেখতে পেরেছি, অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত হতেন, তাদের নিয়ে বন্দনা করতে ১০-১৫ মিনিট সময় ব্যয় করা হতো।
তবে বর্তমান সরকার এই স্তুতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছে।’
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ‘সারা বিশ্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনকে ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। কিন্তু কোনো সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তার প্রাথমিক ফলাফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে।
বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের সরকার, তাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই আমরা ১৮০ দিনের মাথায় কাজের হিসেব তুলে ধরেছি।’
সরকারের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে সালেহ শিবলী বলেন, ‘আমাদের সরকারের একটি বড় সাফল্য হলো নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ৩১ দফার প্রতিটি বাস্তবায়ন করা।
অতীতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের কোনো নজির আমরা দেখিনি।’
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ছিল রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমান সরকার সেই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর হাম ও রুবেলার টিকা নিয়ে যে একটি গুরুতর অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার দায় এই সরকারের ছিল না।
তবুও প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে সন্তান ও স্বজনহারা শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কারণ, সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে নাগরিকদের প্রতি তার দায়দায়িত্ব থাকে। রাজনীতিতে এই জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি একটি বড় সফলতা।’
‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব বলেন, ‘সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা হলো, রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের যেমন দায়িত্ব থাকবে, তেমনি জনগণের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকবে। রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে, আবার নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতেই প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুরো দল কাজ করে যাচ্ছে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন