প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে হেরেছে। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরির পরেও বাংলাদেশ ম্যাচের শেষ ইনিংসে ব্যাটিং ধস সামলাতে পারে নি। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরে গেছে টাইগাররা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৬৩ রানের জবাবে ৩৫৫ রান করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। এর ফলে তারা প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের লিড পেয়ে যায়। সেই লিড পুষিয়ে ম্যাচ বাঁচাতে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে পুরোপুরি ভিন্ন মানসিকতার সাথে bat করতে হতো। কিন্তু বাংলাদেশ শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ২২ ওভারে ৫৪ রানে গুটিয়ে যায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠেন ক্যামবেল থম্পসন। উনি মাত্র ১১ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট নেন। তার বোলিং ফিগার ছিল ১১-২-২৫-৮। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে পতন হওয়া ১০ উইকেটের আটটি এসেছে তার হাত দিয়ে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই থম্পসন সাদমান ইসলামকে ৬ রানে ফিরিয়ে দেন। এরপর মুমিনুল হক ৬ রান করে তার শিকার হন। নাজমুল হোসেন শান্ত কোনো রান না করেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। এরপর সৌম্য সরকার ৫ এবং মুশফিকুর রহিম ২ রানে আউট হয়ে যান—দুজনকেই ফিরিয়েছেন থম্পসন।
ততক্ষণে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান উঠেছে মাত্র ৩৬, নেই চার উইকেট। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ২২ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। তার ৪১ বলের ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। কিন্তু ১৫.৫ ওভারে ৪৫ রানে থম্পসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি।
পরের বলেই আমিত হাসান ৪ রান করে কোরি রকিচোলির বলে ক্যাচ দেন। ৪৫ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের শেষ প্রতিরোধটুকুও দ্রুত ভেঙে যায়। শান্তর পর মিরাজও বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেন নি। ১৯ বল খেলে মাত্র ৬ রান করে রকিচোলির বলে ক্যাচ দেন মিরাজ।
শেষ দিকে হাসান মাহমুদ ২ রানে অপরাজিত থাকলেও তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। থম্পসনই শেষ দুটি উইকেট তুলে নেন—তাসকিন আহমেদকে শূন্য এবং ইবাদত হোসেনকেও শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন উনি। ফলে বাংলাদেশ ২১.৬ ওভারে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে থম্পসনের ৮ উইকেটের সঙ্গে রকিচোলি দুটি উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারই ২৫ রানও করতে পারেননি। তানজিদের ২২ রানই ছিল সর্বোচ্চ।
এছাড়া বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের গল্পটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও মেহেদী হাসান মিরাজ একাই লড়াই করে বাংলাদেশকে ২৬৩ রানে নিয়ে যান। তিনি ১৪১ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও চারটি ছক্কা।
বাংলাদেশের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ৫৩ বলে ৩৭ রান করেন। শাদমান ইসলাম করেন ৩১ রান এবং সৌম্য সরকার ১৬ রান করেন। আমিত হাসান ১৫, খালেদ আহমেদ ১৫ এবং মোমিনুল হক ১৬ রান করেন।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুতেই নড়বড়ে অবস্থা ছিল। মাত্র ৭ রানে তানজিদ হাসান তামিমকে হারায় দল। সাদমান ও মুমিনুল কিছুটা সময় উইকেটে থাকলেও বড় জুটি গড়তে পারেননি। ৬১ রানে মুশফিকুর রহিমও শূন্য রানে ফিরে যান। ফলে মিরাজ ছাড়া বাংলাদেশের ইনিংসে বড় কোনো প্রতিরোধ গড়ে উঠতে পারে নি।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন ক্যোরি রচিওচিওলি। ২৪ ওভার বল করে ৮৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন উনি। জেরসিস ওয়াদিয়া একটি এবং হ্যানো জ্যাকবস, ক্যামবেল থম্পসন ও জেভিয়ার ক্রোনও একটি করে উইকেট নেন।
বাংলাদেশের ২৬৩ রানের জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ব্যাটিংয়ের মূল কারিগর ছিলেন টিগ উইলি। উনি ১৭৭ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ১৬টি চারে সাজানো তার ইনিংসটি ছিল দলটির সবচেয়ে বড় ভিত।
উইলির সঙ্গে বড় জুটি গড়েন জেক ডোরান। তিনি ১০২ বলে ৭৬ রান করেন, তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার। দুজন মিলে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর দীর্ঘ সময় চাপ তৈরি করেন এবং দলের স্কোর তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যান।
এর আগে কার্টিস প্যাটারসন ৯১ বলে ৫৩ এবং জ্যাক ক্লেটন ৫৮ বলে ৪৮ রান করেন। জশ ফিলিপ্পে করেন ২৪ রান। শুরুতে দ্রুত দুই উইকেট হারালেও এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৫৫ রান করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। ১৯ ওভারে মাত্র ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন উনি। টাস্কিন আহমেদ ১৫ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ নেন দুটি উইকেট। খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন একটি করে উইকেট নেন।
কিন্তু প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস পুরো ম্যাচের ফল একপেশে করে দেয়। মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার কোনো সুযোগই পায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৩৮ রানের জয় দিয়ে ম্যাচ শেষ করে তারা।
বাংলাদেশের হয়ে মিরাজের ১০৯ রানের সেঞ্চুরি ছিল ম্যাচটির উজ্জ্বলতম ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সগুলোর একটি। কিন্তু তার সেই লড়াইয়ের সাথে সঙ্গ দিতে পারেননি দলের অন্য ব্যাটাররা। বিপরীতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে ব্যাট হাতে টিগ উইলির ১৩০ এবং বল হাতে ক্যামবেল থম্পসনের ৮ উইকেট পুরো ম্যাচের গতিপথ নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন