প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে লক্ষ্য করে ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় মুসলিম ও আরব-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সত্ত্বেও, তারা রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
ডেট্রয়েটে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনি সমাবেশের বাইরে ডানপন্থি উসকানিদাতা জেক ল্যাং বুলহর্নে মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেন। তার সহযোগীদের হাতে ছিল ক্রুসেডের প্রতীকসংবলিত সামগ্রী এবং রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের নির্বাচনি প্রচারপত্র। ল্যাং মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
আরব ও মুসলিম অধিকারকর্মী সুহাইলা আমেন মন্তব্য করেছেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বর্তমানে নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি বর্তমানের তুলনায় অনেক সহজ ছিল।
ডেট্রয়েটের উপশহর ডিয়ারবর্নের মেয়র আবদুল্লাহ হামুদ জানিয়েছেন, শহরটিতে প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জরুরি নম্বর এবং ফোনকলের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে মুসলমানরা এসব হুমকির মুখে ভীত না হয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হচ্ছে। হামুদের মতে, বিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে আবদুল আল-সাইয়েদকে সিনেটে পাঠানো হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার এল-সাইদের নাম বিকৃত করে উচ্চারণ করেছেন এবং তাকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সও আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুড, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র আরবদের সাহিত্য ও বিজ্ঞানে অবদান নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। সিনেটর টেড ক্রুজ আল-সাইয়েদকে ‘জিহাদি লেপ্রেচন’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং তার সম্ভাব্য সিনেট গোয়েন্দা কমিটিতে থাকা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক মনোযোগ সরানোর কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মিশিগানে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা একজন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ডক্টরেটধারী। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির সম্ভাব্য ভোটারদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, কোনো প্রার্থী মুসলিম হলে তাকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ কমতে পারে।
মাইক রজার্সের পক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে ট্রাম্প প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে আল-সাইয়েদকে আক্রমণ করেন। সমাবেশে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে স্লোগান দেন।
৯/১১ হামলায় ছেলেকে হারানো ট্রাম্পসমর্থক ডেভিড বিমার এল-সাইদের মার্কিন পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য, জন্মসনদ থাকলেই কেউ প্রকৃত আমেরিকান হয়ে যায় না।
এদিকে, ডেট্রয়েটের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, নির্বাচনি প্রচারণার নামে এ ধরনের বক্তব্য শুধু একজন প্রার্থীকে নয়, পুরো সম্প্রদায়কে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব জানিয়েছেন, বর্ণবাদী বিজ্ঞাপন ও বক্তব্যের কারণে নিজের দুই সন্তানকে নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।
‘আমরা এই দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ’
মুসলিম অধিকারকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে আরব ও মুসলিম আমেরিকানদের বহিরাগত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত ব্যর্থতা, ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেও মুসলিম সম্প্রদায়কে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইনের যোগাযোগ পরিচালক আবদেলহালিম আবদেলরহমান বলেন, এল-সাইদের মুসলিম পরিচয় ও নামকে সন্দেহের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা স্পষ্ট ইসলামবিদ্বেষ।
সুহাইলা আমেন বলেন, প্রেসিডেন্টের মতো ক্ষমতাধর ব্যক্তি যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্যকে উৎসাহিত করে।
তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের পছন্দ হোক বা না হোক, আমরা এই দেশের সামাজিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমাবেশে অংশ নেওয়া রিপাবলিকান সমর্থক ব্রায়ান প্যানেবেকার বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোটারদের একজন ‘সমাজতান্ত্রিক ইসলামপন্থি’ প্রার্থীকে সমর্থন করা উচিত হবে না।
তবে স্থানীয় নেতারা বলছেন, ভয় ও বিদ্বেষের জবাব তারা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, ঐক্য এবং নাগরিক অধিকার চর্চার মধ্য দিয়েই দেবেন।
আরএ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন