প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপানের রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগের মধ্যে একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছে দেশটির সংসদ, যা রাজউত্তরাধিকারের নিয়মে শিথিলতা এনেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সংসদের উচ্চকক্ষে পাস হওয়া এই বিলে ১৯৪৯ সালের পর থেকে জাপানের রাজতন্ত্রে এসেছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন。
তবে, জনগণের ব্যাপক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, নারীদের সিংহাসনে বসার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, নতুন আইনে তা পরিবর্তন হয়নি। এর ফলে বর্তমান সম্রাটের একমাত্র সন্তান রাজকুমারী আইকো এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি।
নতুন এই বিলের মাধ্যমে রাজপরিবারের সংকট সমাধানে দুটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে রাজপরিবার ১৫ বছরের বেশি বয়সী দূর সম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়দের দত্তক নিতে পারবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে ১১টি রাজবংশীয় শাখাকে পরিবার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাদের পুরুষ বংশধরদের আবার পরিবারের সাথে ফিরিয়ে আনার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজপরিবারের নারী সদস্যরা সাধারণ পরিবারের কাউকে বিয়ে করলে এখন থেকে তাদের রাজকীয় মর্যাদা বজায় রাখতে পারবেন। আগের আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে বিয়ে করলেই নারীদের রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করতে হতো এবং পরিবারের সাথে চলে যেতে হতো। ২০২১ সালে রাজকুমারী মাকো তার কলেজ জীবনের প্রেমিককে বিয়ে করার সময় ঠিক এই নিয়মের কারণে রাজপদ হারিয়েছিলেন।
বর্তমানে, ২৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যের জাপানি রাজতন্ত্রে সিংহাসনের যোগ্য পুরুষ উত্তরাধিকারী আছে মাত্র তিনজন। বর্তমান সম্রাটের পরে প্রথম সারিতে আছেন তার ৬০ বছর বয়সী ছোট ভাই ফুমিহিতো। দ্বিতীয় সারিতে আছেন ফুমিহিতোর ১৯ বছর বয়সী পুত্র যুবরাজ হিসাহিতো এবং সর্বশেষ প্রার্থী হলেন সম্রাটের ৯০ বছর বয়সী চাচা। নতুন আইনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষকে বিয়ে করা রাজকীয় নারীদের সন্তানেরা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না। এই কারণে, যুবরাজ হিসাহিতোর কোনো পুত্র সন্তানের অভাবে রাজবংশের ধারা ভবিষ্যতে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং অন্যান্য রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতারা রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য রক্ষা করতে শুধুমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকার নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে, দেশটির সাধারণ মানুষের মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭০ থেকে ৮৩ শতাংশ সাধারণ মানুষ একজন নারী সম্রাট থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। নতুন এই আইনের ফলে রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ায় রাজদরবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগুলো পালন করা সহজ হবে, তবে সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে মূল বিতর্ক ও উদ্বেগ এখনও বিদ্যমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন