প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটে অবস্থিত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবার থেকে জেলা প্রশাসন তদারকি করবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুনভাবে দুটি দানবাক্সও স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, দানবাক্সের নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে স্বাগত পেয়েছে, তবে সাতশো বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।
অলি আউলিয়ার পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত সিলেটে প্রতিদিন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজারে। মানত পূরণ ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রেক্ষাপটে ভক্তরা নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও দান করেন দানবাক্সে। দীর্ঘকাল ধরে মাজার কমিটি এসব দান খয়রাতের অর্থ ও সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা করে আসছিল, কিন্তু সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে যে, খাদেম নামে একটি সিন্ডিকেট মাজারের বিপুল অর্থ ও সম্পদ ভোগদখল করছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় একটি কমিটি আগামী এক মাস ধরে মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করবে। ইতোমধ্যে পুরনো দানবাক্স তুলে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
এবং জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, মাজারের দানের কোনো অর্থ সরকার নিবে না। অনিয়ম দূর করার মাধ্যমে সব অর্থ মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি মাজারকেন্দ্রিক একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এজন্য একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে শাহজালাল মাজারের মোতাওয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান মাজারের দান খয়রাতের অর্থ ভোগের বিষয়ে বলেছেন, "আয়ের কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। কারণ প্রতি মাসে সমান আয় হয় না। এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল ও কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়। আমরা যে খাই না, তা নয়। আমরা খাই, আবার মাজারের খরচও চালাই। এভাবেই এত বছর ধরে চলে আসছে।" তিনি আরও জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে মাজারের আয়-ব্যয়ের কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতার ঘাটতির বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে।
এদিকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, মাজারের দানের অর্থ মাজার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি দরগাহ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে দুই মাজারের উন্নয়ন কাজ চলছে যার ব্যয় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। প্রকল্পে মাজার কর্তৃপক্ষের পাঁচ কোটি টাকা দেয়ার কথা ছিল, তবে প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও সেই অর্থ এখনও পরিশোধ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা দূর করতে প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ কতটা কার্যকরী হবে, সেদিকেই এখন নজর সিলেটবাসীর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন