প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে বাণিজ্যিকভাবে চালু হলো সপ্তাহে একবার ব্যবহারযোগ্য ইনসুলিন ‘অউইক্লি’, যা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।
ডেনমার্কের সংস্থা ‘নোভো নরডিস্ক’ এর তৈরি এই ইনসুলিন ব্যবহারের ফলে ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীদের জন্য প্রতিদিন ইনসুলিন নেওয়ার ঝক্কি নের সামনে আসবে না। বরং এখন তারা সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের ডোজ এক দিনের মধ্যে নিতে পারবেন।
‘অউইক্লি’ ইনসুলিনটি টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করবে। এর জন্য সপ্তাহে মাত্র একবার ‘ফ্লেক্সটাচ’ কলমের মাধ্যমে ইনজেকশন নিতে হবে।
এটি একক ডোজের মাধ্যমে সারা সপ্তাহ ধরে ইনসুলিনের সুষম সরবরাহ নিশ্চিত করবে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনের দাবি, ভারতে ডায়াবেটিসের প্রকোপ যথেষ্ট বেশি। দেশে ১০ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, এবং প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ প্রি-ডায়াবেটিস অবস্থায় রয়েছে।
নোভো নরডিস্ক জানিয়েছেন, এই ইনসুলিনের জেনেরিক নাম ‘ইনসুলিন আইকোডেক’। এর ফলে রোগীদের বছরে ৩৬৫ বার ইনজেকশন নিতে হবে না, বরং তারা কেবল ৫২ বার ইনজেকশনই নিলেই চলবে। এটি প্রচলিত দৈনিক ইনসুলিনের মতোই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে।
ব্যবহার ও কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে, একটি প্রি-ফিল্ড পেন ডিভাইসের সাহায্যে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে একবার এই ইনসুলিন পেট, উরু বা বাহুর ত্বকের নিচে নিতে হয়। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা অনুযায়ী এর ডোজ নির্ধারিত হয়।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ‘অউইক্লি’ ইনসুলিনের পাশাপাশি খাবারের সময় দ্রুত কার্যকর হতে হবে। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীরা এককভাবে বা অন্য ওষুধের সঙ্গে মিলিয়ে এই ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারবেন।
এটি শরীরে এক সপ্তাহ ধরে কার্যকর হয়ে আলবামিন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে।
নোভো নরডিস্ক ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিক্রান্ত শ্রোত্রিয় জানিয়েছেন, বিশ্বের সপ্তম দেশ হিসেবে ভারতে ‘অউইক্লি’ ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এটি রোগীদের শারীরিক ও মানসিক বাধা দূর করতে সহায়তা করবে।
এই ওষুধ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কিছু দেশে অনুমোদন পেয়েছে।
ভারতে এটি সানোফি কোম্পানির ‘ল্যান্টাস’ এবং বায়োকন, এরিস লাইফসায়েন্সেস ও লুপিনের মতো দেশীয় কোম্পানির দৈনিক ইনসুলিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
আইএমএআরসি-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ইনসুলিনের বাজার ২০২৫ সালের ৬৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯১ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে পৌঁছাবে।
অলস জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জিনগত কারণে দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সপ্তাহে একবারের এই ইনসুলিন রোগীদের জন্য নিয়মিত ওষুধ নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সহজ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন