প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে নানাভাবে মানুষের কাজ সহজ করে দিচ্ছে। ভারতে বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণে এআই‘এর ব্যবহার যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিভিন্নস্থানে বণ্যপ্রাণীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বন্যপ্রাণীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি সময়মত সতর্কবার্তা পাঠায়। ফলে বন্যপ্রাণী নিরাপদ থাকছে, পাশাপাশি মানুষও নিরাপদে থাকতে পারছে বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে।
সম্প্রতি এআই ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার ফলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়ার কাছে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনার মাধ্যমে দেখা গেছে, কিভাবে এআই-চালিত নজরদারি ক্যামেরার এবং বন কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ সংঘাত এড়াতে সহায়তা করেছে। ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসের কর্মকর্তা পারভীন কাসওয়ানের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কিভাবে হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বন্যপ্রাণী ও জনবসতি উভয়কে রক্ষা করার জন্য মাঠ পর্যায়ে নিজের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
কাসওয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২৬ জুলাই রাত আনুমানিক ১২:৩২ মিনিটে। এই সময় এআই-সক্ষম নজরদারি ক্যামেরাগুলো বনের সীমানা থেকে একটি হাতির দলকে কাছে একটি গ্রামের দিকে এগিয়ে যেতে সনাক্ত করে। সিস্টেমটি সাথে সাথে এই গতিবিধি চিহ্নিত করে এবং বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে একটি স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠায়।
১৫ মিনিটের মধ্যে একটি নগরী থাকা র্যাপিড রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা হাতির দলটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রবেশ ঠেকিয়ে মানুষের এবং হাতির মধ্যে সংঘাত এড়াতে সক্ষম হয়।
২৮ জুলাই নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করে পারভীন কাসওয়ান লিখেছেন, ’এটি আমাদের একটি রুটিন কাজ। প্রতিদিন রাতে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বিভিন্ন সতর্কবার্তা প্রদান করেন, যা মানুষ এবং বন্যপ্রাণী উভয়কেই রক্ষা করে।’
ভিডিওটিতে দেখা যায়, হাতির দলটি অন্ধকারের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে, যা নাইট-ভিশন নজরদারি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এআই সিস্টেমটি হাতির দলটিকে সনাক্ত করে এবং এক মাস ধরে চলমান একটি অ্যালার্ট জারি করে। ফলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা মানুষের বসতিতে পৌঁছানোর আগেই ব্যবস্থা নেয়।
এটি ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং অনেক ব্যবহারকারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহারের প্রতি প্রশংসা জানিয়েছেন। অনেকেই এই প্রযুক্তিটিকে জননিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার বাস্তবসম্মত উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে বন কর্মীদের কার্যকারিতা এবং তাদের দ্রুত প্রতিনিধিত্বও প্রশংসা করা হয়েছে।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটি খুবই চমৎকার। এআই-এর সঠিক ব্যবহার সত্যিই দারুণ সুবিধা নিয়ে আসে।’ অন্য একজন বলেছেন, ’আপনাদের গভীর শ্রদ্ধা। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত, কিন্তু সবকিছু খুব সুন্দরভাবে সামলানো হয়েছে। অনেক জীবন বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ।’
ভাইরাল ভিডিওটির কারণে আলোচনা শুরু হলেও ভারতে বেশ কিছুদিন ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর ও মাদুক্কারাই বনাঞ্চলে এআই-চালিত থার্মাল ক্যামেরা সিস্টেম চালু রয়েছে। এই সিস্টেমটি বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনের দিকে হাতি এগিয়ে এলে চালক ও বন বিভাগকে আগে থেকে সতর্ক করে দেয়। চালুর পর থেকে এই সিস্টেমটি ৬ হাজার ৫৯২ বার সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা সংঘাত এড়াতে সাহায্য করেছে এবং এর ফলে সেখানে হাতির মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে এসেছে। ওড়িশার রাউরকেলাতেও একইভাবে ট্রেন থামিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়তা করেছে। আসামের কাজী রঙা জাতীয় উদ্যানের আশেপাশের গ্রামে হাতির ডাক সনাক্ত করতে এবং বাঘের গর্জন বা মৌমাছির আওয়াজ তৈরি করে তাদেরকে লোকালয় থেকে দূরে রাখতে বিশেষ এআই অডিও ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন