প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় বিচার কার্যক্রম শুরুর অনুভবের দিনে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার বক্তব্য কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতে হাজির হওয়ার সময় তিনি বারবার বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে “ডলার” নামক একজন ব্যক্তি। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের সময় ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সোমবার (১ জুন) ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু হয়েছে। আদালতের সামনে সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছেও ডলার। আমি তো শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছিলাম।
তিনি আরও দাবি করেন, ডলারের বাসা মিরপুর-১১ এলাকায় এবং রামিসাকে এনে দেওয়ার জন্য তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
শুনানি শেষে যখন হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল, তখনও একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, ডলারকে খুঁজলে সব সত্য বের হবে। কিন্তু এই সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডলার পল্লবী এলাকারই বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক। তিনি মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সোহেল রানার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল একটি স্থানীয় গ্যারেজের মাধ্যমে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ডলার ধনী নন, তবে তাদের পরিবার এলাকার বাড়ির মালিক ও আর্থিকভাবে সচ্ছল।
ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, যদি এই ঘটনায় ডলারের কোনো ভূমিকা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারও সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তদন্তের সময় ডলার নামে একজনের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তিনি জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিজিটাল তথ্য এবং তদন্তে ঘটনাস্থলে ডলারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এজন্য চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও ডলারের নাম উঠে আসেনি। এছাড়াও সোহেল রানার সঙ্গে ডলারের পূর্বশত্রুতার তথ্যও পাওয়া গেছে। তার মতে, আসামি নতুন এই দাবি উত্থাপন করে বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেছেন, তদন্তে ডলারের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার কথায়, পেশাদার অপরাধীরা অনেক সময় তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে অন্য ব্যক্তির নাম সামনে আনে। আদালতে আসামি এই বিষয়ে কিছু বলেনি, শুধু গণমাধ্যমের সামনে বলেছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ জানিয়েছেন, আসামির সঙ্গে তার আলোচনায় ডলারের বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
গত ১৯ মে সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর সোহেল রানা বাসার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। একই দিনে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই, ২৪ মে পুলিশ মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়।
মামলাটির বিচার কার্যক্রম এখনও চলছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন