প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সঙ্গে ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাতে নিহত ভারতীয় সেনাসদস্যদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রি নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ তুলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্যও দাবি জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত চলাকালে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ হতাহতের তথ্য নিয়ে সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করছে কংগ্রেস। একই সময়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মোদি সরকারের দাবির ভিত্তিতে, ওই সংঘাতে মোট ছয়জন সেনাসদস্য নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং একজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সেনাসদস্যবিষয়ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী ও অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার অনূমা আচার্য অভিযোগ করেন, নিহত ছয় সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে সরকার তাদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করেছে।
উইং কমান্ডার অনূমা আচার্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা, অতীতের সরকারগুলো দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রতিটি সেনাসদস্যকে প্রকাশ্যে সম্মান জানাতে পিছপা হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘মোদি সরকার সেনাবাহিনী ও সেনাসদস্যদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তারা বারবার দেশ ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরীর পক্ষ থেকে অভিযোজিত হয়েছে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি ভোটের সময় সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে বলেছিলেন, কোনও সেনাসদস্য নিহত হননি। তখন বিজেপির সংসদ সদস্যরা হাততালি দিয়েছিলেন। রাজনাথ সিং দেশের সেনাবাহিনী ও সেনাসদস্যদের অপমান করেছেন। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।’
এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিহত সেনাসদস্যদের নাম প্রকাশ করতে সরকারের ১৩ মাস সময় লাগল কেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে বিশেষ অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার জন্য দলীয় নেতৃত্বকে অনুরোধ জানানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন