প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অব ফেমে আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা করে নিয়েছেন টেনিসের কিংবদন্তি রজার ফেদেরার।
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশে হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এককের শিরোপাজয়ী এই সুইস তারকা।
২০২২ সালে পেশাদার টেনিস থেকে অবসর নেওয়া ফেদেরার অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, এটি তার জীবনের অন্যতম সেরা সম্মান। বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে কয়েকবার আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি মুছতেও দেখা যায়। অনুষ্ঠানে টেনিসের বিলি জিন কিং ও জন ম্যাকেনরোর মতো কিংবদন্তি উপস্থিত ছিলেন।
ফেদেরার বলেন, এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা সম্মান। তারা এটিকে হল অব ফেম বলে, কিন্তু খ্যাতি কখনোই আমার লক্ষ্য ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করে জীবন কাটানো, যা আমি ভালোবাসি এবং এমন মানুষদের সঙ্গে, যারা এটিকে আমার মতোই ভালোবাসে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৯৮ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন ফেদেরার। দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি জেতেন ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এককের শিরোপা। এর মধ্যে উইম্বলডনে রেকর্ড আটটি, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ছয়টি, ইউএস ওপেনে পাঁচটি এবং ফ্রেঞ্চ ওপেনে একটি শিরোপা রয়েছে।
২০০৩ সালে উইম্বলডন জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতেন তিনি। বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে কাটিয়েছেন ৩১০ সপ্তাহ। পরবর্তী সময়ে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান নোভাক জোকোভিচ।
পুরুষদের এককে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সংখ্যায় ফেদেরারের চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ। নাদালের ২২টি এবং জোকোভিচের ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা রয়েছে।
গ্র্যান্ড স্ল্যামের পাশাপাশি অলিম্পিকেও সাফল্য পেয়েছেন ফেদেরার। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে স্টান ওয়াওরিঙ্কার সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের হয়ে পুরুষদের দ্বৈত ইভেন্টে সোনা জেতেন তিনি। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে এককে জেতেন রুপার পদক।
২০১৪ সালে সুইস দলের হয়ে প্রথমবারের মতো ডেভিস কাপ জয়ের গৌরবও অর্জন করেন ফেদেরার।
হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তির আবেগঘন মুহূর্তেও নিজের রসবোধ ধরে রাখেন ফেদেরার। বক্তব্যে তিনি ক্যারিয়ারের কিছু ব্যতিক্রমী পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
ফেদেরার জানান, ১৯৯৮ সালে পেশাদার টেনিসে অভিষেক থেকে ২০২২ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত তিনি ৫ হাজারের বেশি হেডব্যান্ড পরেছেন। তিনি মজা করে বলেন, এই সংখ্যা বিজর্ন বর্গ ও জন ম্যাকেনরোর সম্মিলিত ব্যবহারের চেয়েও বেশি।
শুধু হেডব্যান্ড নয়, ক্যারিয়ারে তিনি ৭ হাজারের বেশি জোড়া মোজা পরেছেন বলেও জানান। প্রতিপক্ষের তুলনায় তিনি দ্বিগুণ মোজা পরতেন বলেও রসিকতা করেন।
তবে এসব সংখ্যার চেয়েও হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তির তাৎপর্য অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফেদেরার বলেন, এখানে থাকার অর্থ কী, তা পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই। এটিকে শব্দে প্রকাশ করাও কঠিন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে স্ত্রী মিরকা, নিজের টেনিস-আদর্শ স্টেফান এডবার্গ এবং ক্যারিয়ারে তাঁর ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি বলবয়কে ধন্যবাদ জানান ফেদেরার। এ সময় তিনি আবারও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ক্যারিয়ারের বিভিন্ন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আন্দ্রে আগাসি, লেইটন হিউইট, অ্যান্ডি রডিক, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচের মতো তারকাদের সঙ্গে একই সময়ে খেলতে পারাকে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
আবেগ সামলাতে না পেরে হাস্যরস করে ফেদেরার বলেন, এই মুহূর্তে আমার টিস্যু, সানগ্লাস সবকিছুই দরকার। আমি পুরোপুরি আবেগে ভেসে যাচ্ছি।
অবসর নেওয়ার পরও টেনিস তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে বলে জানান ২০ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন