প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপজুড়ে বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহের পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হলো।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বারবার ফিরে আসা তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি স্পষ্ট লক্ষণ। তারা সতর্কবার্তা জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হবে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
-ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে-
ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুববিষয়ক মন্ত্রী মারিনা ফেরারি মঙ্গলবার ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে জানিয়েছেন যে, সপ্তাহের শেষে দেশটিতে প্রায় ২০ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তিনি তাপ থেকে বাঁচতে নদী, হ্রদ এবং সমুদ্রসৈকতে ভিড় করা মানুষকে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
সোমবার দেশটির সিভিল সিকিউরিটির এক মুখপাত্র সপ্তাহের শেষে পানিতে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিলেন।
-ফ্রান্সে সংকট বৈঠক-
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকর্নুর মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আরও একটি সংকট জনক পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পরিকল্পনা রয়েছে।
-বন্ধ করা হলো পারমাণবিক চুল্লি-
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, শীতলীকরণের জন্য কাছের নদী থেকে নেওয়া পানি অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, তুলুজের কাছে অবস্থিত গলফেশ পারমাণবিক কেন্দ্র গ্যারন নদীর পানি ব্যবহার করে শীতল করা হয়। তবে নদীর পানির তাপমাত্রা নিরাপদ সীমা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে গেছে।
-ফ্রান্সে জুনের তাপমাত্রার রেকর্ড-
চরম গরমের প্রভাবে ফ্রান্সে এক হাজার ৩৫০টির বেশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের গড় তাপমাত্রা জুন মাসের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
মেতো ফ্রান্সের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দিন ও রাত মিলিয়ে দেশে গড় তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল।
মঙ্গলবারের জন্য ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের ৯৬ বিভাগের মধ্যে ৫৪টিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ প্রভাবিত হবে।
-বেলজিয়ামে রেকর্ড তাপপ্রবাহের আশঙ্কা-
বেলজিয়ামে তাপপ্রবাহ এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আইআরএম-এর পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান ডেভিড ডেহেনাউ সতর্ক করে বলেছেন, এটি হতে পারে ‘এ পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া’ সবচেয়ে উষ্ণ সময়।
দেশটির কয়েকটি স্কুলে পাঠদান অর্ধদিবসের জন্য সীমিত করা হয়েছে।
-জার্মানিতে পাঁচ জনের মৃত্যু-
জার্মানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহের শেষে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাভারিয়ার দুটি হ্রদে ২০ ও ২২ বছর বয়সী দুই যুবক ডুবে মারা গেছেন। বাল্টিক সাগরে ৭৯ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন।
এ ছাড়া ব্রান্ডেনবুর্গ ও নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার হ্রদগুলোতেও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সোমবার জানায়, আগের দিন ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে উড্ডয়নের আগে একটি বিমান রানওয়ের পাশে এক ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকায় গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজন যাত্রীকে জরুরি সেবা দিতে হয়েছে।
-ফ্রান্সে দুই শিশুর মৃত্যু-
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সোমবার একটি প্রাইভেট কার থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রসিকিউটর এলেন মুরজেস জানান, তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
-ভ্রমণ স্থগিতের পরামর্শ-
প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি পেক্রেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘চরম গরমের সময়ে পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। রেলপথ ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই আমরা বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের যাত্রা স্থগিতের পরামর্শ দিয়েছি। যারা বাসা থেকে কাজ করতে পারেন, তাদেরও তা করতে বলা হয়েছে।’
-যুক্তরাজ্যে বিরল সর্বোচ্চ সতর্কতা-
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ স্তরের তাপ সতর্কতা জারি করেছে।
ছায়াযুক্ত স্থানেও কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস হয়েছে।
সোমবার মেট অফিস জানিয়েছে, লন্ডন, বার্মিংহাম ও বাথসহ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ‘ব্যতিক্রমধর্মী গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া’ বিরাজ করবে।
গত মাসে মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছিল যুক্তরাজ্য।
আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, জুন মাসের বিদ্যমান সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও এবার ভাঙতে পারে। বর্তমানে এ রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৭৬ সালের জুনে সাউদাম্পটন এবং ১৯৫৭ সালের জুনে ক্যামডেন স্কয়ারে রেকর্ড করা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন