০৪:৩৭ পি.এম
দেশের সাধারণ মানুষ নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। হ্যাকাররা লোভনীয় অফারসহ ভুয়া মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে ব্যবহারকারীর ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। এরপর মুহূর্তেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিট জানায়, গত এক মাসে এ ধরনের অন্তত ৩০টি অভিযোগ দাখিল হয়েছে। প্রতারকরা সাধারণত একটি এসএমএস বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ফাঁদে ফেলে। এমনকি অ্যাপ ইন্সটল করার পর ফোনের স্ক্রিন ব্ল্যাক হয়ে যায়, ফলে ব্যবহারকারী ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হারান। এই সুযোগে হ্যাকাররা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর করে নেয়।
একজন ভুক্তভোগী পিংকি বলেন, অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ‘এনবি’ নামের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেছিলেন তিনি। অ্যাপটি ইনস্টল করার পরপরই তার ফোন হ্যাং হয়ে যায় এবং পরে সম্পূর্ণরূপে ব্ল্যাক হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ফোনে একাধিক মেসেজ আসে, যেখানে দেখা যায় তার অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে কয়েক লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামের নতুন ফিচার, দেখা শেষ হলেই উধাও হবে ছবি
অন্য একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সৌম্য কান্তি দাশও একই কৌশলের শিকার হন। তিনি বলেন, স্কাই ব্যাংকিং অ্যাপে ঢুকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঢোকার মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ফোন ব্ল্যাক স্ক্রিন হয়ে যায় এবং ‘সিস্টেম আপডেটিং’ লেখা দেখায়। ফলে তিনি কোনো বাটন চাপতে পারেননি। কিছুক্ষণ পরে তার কাছে দুটি মেসেজ আসে: একটি ‘ওটিপি’ এবং অপরটি ৩ লাখ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হওয়ার। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এটি কোনো সিস্টেম আপডেট নয়, বরং ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ফোনের রিমোট কন্ট্রোল নেয়া হয়েছে। তাদের কাছে ৩০টিরও বেশি একই ধরনের অভিযোগ এসেছে।
ডিএমপির সাইবার ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর মত করেই টাকা ট্রান্সফার করছে। তদন্তের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, টাকা দেশের বিভিন্ন ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে অন্য অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে, যেগুলোর অনেকই প্রতারক চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে, এই কার্যক্রম দেশের বাইরেও, বিশেষ করে চীন থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান বলেন, ভুয়া অ্যাপগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। তাই শুধুমাত্র অফিসিয়াল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়। বিশেষ করে ফ্রি অ্যাপ বা ফ্রি গেম ডাউনলোডের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত, প্রয়োজনে যা ব্যাংকিং বা আর্থিক অ্যাপ ব্যবহার করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো অপরিচিত লিংক বা লোভনীয় অফারে যাচাই ছাড়া ক্লিক করা উচিত নয়। যদি ভুলবশত এমন কিছু ঘটে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া উচিত।
আরও পড়ুন: প্রশ্নের জবাব না পেয়ে ভোগান্তিতে গ্রক ব্যবহারকারীরা
সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন