প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, তদন্তে হাসপাতালের অবহেলা প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে আসে। প্রতিবেদনে হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা গেছে। আমরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়েছি। আমাদের একটি তদন্ত কমিটিও রয়েছে, তাদের তিন দিনের সময়সীমা দিয়েছিলাম এবং আজ বিকেল ৩টায় সেই প্রতিবেদন আমি হাতে পেয়েছি।’
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত কমিটি হাসপাতালটি পরিদর্শন করে ঐকমত হয়েছে যে ভবনটি হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ নম্বর দুই পরিদর্শনের পর দেখা গেছে, সেখানে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি ছিল। এর ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সেবিকাদের অবহেলা এবং অসহযোগিতা ছিল নজিরবিহীন।’
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নবজাতকদের আকস্মিক শারীরিক অবনতি ঘটলে হাসপাতালের সক্রিয় ইমারজেন্সি মেডিকেল রেসপন্স কার্যক্রম ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানের সাড়া না দিয়ে অদৃশ্য নার্সরা চিকিৎসকদের বিষয়টি না জানিয়ে কালক্ষেপণ করেন। এমনকি নবজাতকদের মৃত্যুরোধে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। কক্ষটিতে প্রায় ৯০০ বর্গফুট জায়গা ছিল, যেখানে ১১ নবজাতক এবং রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জন ছিল, যা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।’
মন্ত্রী আরও জানান, ‘হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিবর্গ হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালন করতে সক্ষম ছিলেন না। ভর্তি রোগীদের দেখাশোনার জন্য কোনো চিকিৎসক ছিলেন না এবং দায়িত্বে থাকা সেবিকাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বদ্ধ কক্ষে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা, বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে নবজাতক শিশুর দীর্ঘ সময় টিকে থাকার সম্ভাবনা ছিল না।’
এর আগে ২৭ মে ভোরে আদ-দিন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতক মারা যায়। হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাসলাইনে লিকেজ বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শ্বাসরোধে মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশ। ঘটনার পর রমনা থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে ছিল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব; সদস্য সচিব ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিলেও পরে তা বাড়িয়ে ৪ জুন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন