প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স এবং স্পেন। তীব্র দাবানলের কারণে তিন লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের ফলস্বরূপ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভয়ঙ্কর তাপমাত্রা ভয়াবহ আগুন ছড়াতে সাহায্য করছে।
ফ্রান্সে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক দাবানল আঘাত হেনেছে। দেশটির বিখ্যাত ওয়াইন অঞ্চল বোর্দোর চারপাশের গিরোন্দে এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে মাত্র চারদিনেরও কম সময়ে ৪২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা প্যারিস শহরের আয়তনের প্রায় চার গুণের সমান।
বর্তমানে আগুনটি বোর্দো শহরের দক্ষিণ দিক থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থান করছে। এছাড়া ফরাসি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও রকেট মোটর তৈরির কারখানার মতো বেশ কিছু সংবেদনশীল সামরিক ও শিল্প স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশের অঞ্চলেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী, মাদ্রিদ অঞ্চলের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় দাবানল। সেখানে প্রায় ৭৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে, যা স্বয়ং মাদ্রিদের আয়তনের চেয়েও বড় আকার ধারণ করেছে।
এই দাবানল এতটাই চরম আকার ধারণ করেছে যে এটি বজ্রঝড় তৈরি করছে। আগুনের প্রচণ্ড তাপে দ্রুত ওপরের দিকে উঠে যাওয়া বাতাস, ধোঁয়া ও ছাই বায়ুমণ্ডলে গিয়ে ঘনীভূত হয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি করছে। এই মেঘ থেকে তৈরি হওয়া নিজস্ব বজ্রপাত অনেক সময় নতুন করে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দেশই সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ পানি ও অগ্নিনির্বাপক কেমিক্যালে ভরা বিমান ব্যবহার করছে। এর মধ্যে কানাডিয়ার নামের বিশেষ বিমান মাত্র ১২ সেকেন্ডে হৃদ বা সাগর থেকে ৬ হাজার লিটার পানি সংগ্রহ করে সরাসরি আগুনে ফেলতে সক্ষম। গিরোন্দে এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী, দেড় হাজার সেনাসদস্য এবং এক হাজার ২০০ পুলিশ ও জেন্ডারম কাজ করছেন। এর পাশাপাশি ফায়ারব্রেক বা ফায়ার লাইন তৈরির অংশ হিসেবে বুলডোজার ও খননযন্ত্র ব্যবহার করে মাটি থেকে সমস্ত গাছপালা ও জঙ্গল পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে আগুন ছড়াতে না পারে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়োজিত জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে বলছেন স্থানীয় কর্তাব্যক্তিরা। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন