প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে এয়ারবাসের চুক্তি কেবল উড়োজাহাজ কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এভিয়েশন খাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহত্তর অংশীদারিত্বের সূচনা করছে।
বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং এয়ারবাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা শুধু উড়োজাহাজ কেনার চেয়েও অনেক বড় কিছু।’
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, নতুন উড়োজাহাজগুলোকে সময়মতো এবং সফলভাবে বহরে যুক্ত ও বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য এয়ারবাস প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং প্রকৌশল সহায়তাসহ একটি সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করবে।
চুক্তির আওতায় বিমান চারটি এয়ারবাস এ৩৫০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১ ন্যারো-বডি জেট সংগ্রহ করবে।
রাষ্ট্রদূত সেরে-শারলে বিমান ও এয়ারবাসকে এ চুক্তির জন্য অভিনন্দন জানিয়ে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এয়ারবাসের কার্যক্রমের ব্যাপারে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু উড়োজাহাজ সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বাংলাদেশের বৃহত্তর এভিয়েশন ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে বিমান ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, ব্র্যান্ডিং এবং বহর পরিকল্পনার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাসের ন্যারো-বডি এবং ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজের সমন্বয় বিমান-কে আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার রুটে পরিচালনগত ক্ষেত্রে অধিকতর নমনীয়তা প্রদান করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এ ধরনের উড়োজাহাজের বহর জ্বালানি সাশ্রয়, প্রতি আসন-মাইলে ব্যয় কমানো এবং এয়ারবাস পরিবারের বিভিন্ন উড়োজাহাজের মধ্যে অধিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেরে-শারলে জানান, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে।’
বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে একটি প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় এয়ারলাইন গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই আকাঙ্ক্ষা নতুন ও প্রতিযোগিতামূলক উড়োজাহাজ সংগ্রহের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।’
বাংলাদেশের আধুনিকায়ন ও প্রবৃদ্ধিতে, বিশেষ করে বৃহত্তর বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে, ফ্রান্স সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গতকাল সন্ধ্যায় এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
চুক্তির আওতায় রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি জেট।
এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জার্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এয়ারবাসের সঙ্গে এ চুক্তি এবং পৃথকভাবে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তিসহ বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে এখন মোট ৩৫টি জেট রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন