প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে গেছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৮ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি পতনের ঘটনার পেছনে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানির বাজার সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানান, জানুয়ারি-জুন সময়সীমায় বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং গড় রপ্তানি মূল্য ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে।
যাইহোক, জুন মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ইইউতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।
যদিও রপ্তানির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ বাড়ার খবর পাওয়া গেছে, তবুও গড় রপ্তানি মূল্য ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউ মোট ৪১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। এই সময়ে আমদানির পরিমাণ ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ কমেছে, এবং গড় ইউনিট মূল্য ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইইউজুড়ে ভোক্তা চাহিদার দুর্বলতা এবং পোশাকের দাম হ্রাস পাওয়ার কারণে আমদানির বাজার সংকুচিত হয়েছে।
তবে, ইইউর সামগ্রিক আমদানির কমার তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বেশি হারে কমেছে।
ইইউর বাজারে বাংলাদেশসহ অধিকাংশ প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশেরও রপ্তানি কমেছে। তুরস্কের রপ্তানি ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ভারতের ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ২১ শতাংশ, চীনের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মৌলিক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে। দেশটির পোশাক রপ্তানি শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও রপ্তানির পরিমাণ ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে, গড় ইউনিট মূল্য ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানিতে বৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে দেশটি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইইউর পোশাক আমদানির বাজার সংকুচিত হওয়ার তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি গতির পতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ এবং গড় রপ্তানি মূল্য দুটিরই পতন ঘটে, যা ইউরোপের বাজারে দেশের পোশাক খাতের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন