প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম নগরের কাট্টলি এলাকার রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাটে খাস কালেকশন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সড়কে মাছ ও বরফ ফেলে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে, জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা ঘাটসংলগ্ন সড়কে এ প্রতীকী প্রতিবাদ করেন। এ সময় জেলেরা বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে থাকেন। তাদের দাবি, ঘাটে অবৈধভাবে খাস কালেকশন এবং চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে জেলে সম্প্রদায়ের শতাধিক সদস্য অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে ঘাট এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। প্রতিবাদকারীরা তাদের দাবিদাওয়া-সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে মাছ অবতরণ, নৌকা ভেড়ানো, জাল, রশি, বরফ, গ্যাস সিলিন্ডার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার ওপর অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। খাস কালেকশনের নামে এসব অর্থ আদায়ের ফলে জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের মৎস্য খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাট হওয়া সত্ত্বেও এখানে কর্মরত জেলেরা নানা ধরনের হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন মাছ নিয়ে ঘাটে আসার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। এ অবস্থায় অনেক জেলে লোকসানের মুখে পড়ছেন।
জেলে নেতারা অভিযোগ করেন, ঘাটে কর্মরত শ্রমিক, নৌকার মাঝি, মাছ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ক্ষুদ্র বিক্রেতারাও একই ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন। আমরা আমাদের এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছি। একইসঙ্গে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে চাই। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজির কারণে আমাদের আয় কমে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়ে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাইনি।
রানী রাসমনি ইলিশ ঘাটের সভাপতি মো. হাসান আলী চৌধুরী বলেন, এই ঘাটের আশেপাশে আরও ঘাট রয়েছে। সেখানে কোথাও খাস কালেকশন নেই। কিন্তু শুধু এখানে খাস কালেকশনের নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে। অবৈধ খাস কালেকশন ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ উদ্দিন বলেন, আমি ১৯৯৫ সাল থেকে এই ঘাটে ব্যবসা করে আসছি। এর আগে আমাদের মুরুব্বিরা ব্যবসা করে গেছেন। তাদের মুখেও কখনো খাজনা দিতে শুনি নাই। অথচ এখন এসে দাবি করা হচ্ছে খাজনা দিতে হবে। দেশের অন্যতম মাছের আড়ত হলো ফিশারিঘাট। সেখানে পর্যন্ত কোনো খাস কালেকশন নেই। পানি, বরফ, মাছ, চায়ের দোকান—সবকিছুতেই নাকি এখন তাদের টাকা দিতে হবে। আমরা এটির সুষ্ঠু সুরাহা চাই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন