প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাচাতো, খালাতো বা নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে বিশ্বের অনেক সমাজেই দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত একটি রীতি হিসেবে পরিচিত। পরিবার ও সংস্কৃতির বন্ধন ধরে রাখা, সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা কিংবা পারিবারিক সম্পদ সংরক্ষণের মতো নানা কারণে এখনও অনেক স্থানে এ ধরনের বিয়ে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা আবার প্রশ্ন তুলে ধরেছে, আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কতটা নিরাপত্তা রয়েছে?
যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফর্ড শহরে পরিচালিত ‘বর্ন ইন ব্র্যাডফর্ড’ নামক গবেষণায় দেখা গেছে, ফার্স্ট কাজিন অর্থাৎ চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ের ফলে সন্তানদের কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
গবেষণার ব্যাখ্যার মাধ্যমে জানা যায়, মা ও বাবার শরীরে থাকা ত্রুটিপূর্ণ জিন, যখন সন্তানদের মধ্যে একসঙ্গে আসে, তখন কিছু বংশগত রোগের প্রকাশ ঘটতে পারে। আত্মীয়দের মধ্যে একই ধরনের জিন বহনের সম্ভাবনা বেশিরভাগ সময় বেশি হওয়ায় সেই ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, সাধারণ দম্পতির ক্ষেত্রে সন্তানদের বংশগত রোগের ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ, যেখানে ফার্স্ট কাজিন দম্পতির ক্ষেত্রে তা অন্তত ৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গবেষণায় ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, সন্তানদের মধ্যে ভাষা বিকাশে কিছু সমস্যা তুলনামূলক বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে, বিকাশের নির্দিষ্ট মাইলফলক অর্জনের হার কিছুটা কম ছিল এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি কোনভাবেই নির্দেশ করে না যে আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে সব সন্তানের জন্য অসুস্থতা অনিবার্য। অনেক পরিবারে সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানও জন্ম নিচ্ছে, যা উল্লেখযোগ্য।
গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ পেয়েছে, তা হলো শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, একই সম্প্রদায় বা একই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিয়ে হলে নির্দিষ্ট কিছু জিন বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা একে এন্ডোগামি বলে থাকেন। ফলে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও কিছু জিনগত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নরওয়ে কাজিনদের মধ্যে বিয়েকে নিষিদ্ধ করেছে এবং সুইডেনেও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্য এখনও পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে জেনেটিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ও সামাজিক, কিন্তু ভবিষ্যৎ সন্তানের সম্ভাব্য জেনেটিক ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা জেনেটিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে দায়িত্বশীল পথ।
সামাজিক বাস্তবতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট, আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যও নিবিড়ভাবে জড়িত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন