প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার দেবিদ্বারের পান্নারপুল থেকে মুরাদনগরের নহল চৌমুহনী পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রতি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে গেছে। শনিবার সড়কটির দেবীদ্বার পৌরসভার ভিংলাবাড়ি এলাকা পরিদর্শন করে জানা যায়, এই সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।
সড়কটির পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশের প্রায় আড়াই কিলোমিটার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার অন্তর্গত, এবং বাকিটা মুরাদনগরের ভেতর। সড়কটির দুই অংশের সংস্কারের দায়িত্ব সরকারের দুটি বিভাগের মধ্যে বিভক্ত। এই কারণে সড়কটির সংস্কার নিয়ে চলছে রশি টানাটানি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলার নহল চৌমুহনী পর্যন্ত থাকা এই সড়কটি বিগত সাত বছর ধরে অবহেলায় রয়েছে। এই সড়কটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পান্নারপুল-বাখরাবাদ সড়ক হয়ে সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
প্রথমে এটি পেট্রো বাংলার অধীনে থাকলেও পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় আনা হয়। এরপর সড়কের ইলিয়টগঞ্জ থেকে নহলচৌমুহনী পর্যন্ত অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় স্থানান্তরিত হয়। দুই উপজেলার বাসিন্দারা দ্রুত সময়ে ঢাকা কিংবা দেশের যেকোনো জায়গায় যেতে এই সড়কটি ব্যবহার করেন।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেল, পুরো সড়কজুড়ে খানাখন্দ। বৃহত্তর অংশে পিচ উঠে ইট-খোয়া বেরিয়ে পড়েছে এবং বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে যানবাহনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ধীরগতিতে চলাচল করতে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সাত বছর ধরে এ সড়কের অবস্থা বেহাল থাকলেও এর সংস্কারের জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি। এই সড়কটি দুই উপজেলার মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সংস্কার কাজ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন অন্তত তিন লাখ মানুষ। তারা জানান, বৃষ্টির সময় সড়কের বিভিন্ন অংশের গর্তগুলো তলিয়ে যায়। এতে কোনটি সড়ক আর কোনটি গর্ত, তা বুঝতে অসুবিধা হয়। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের চালক, পথচারী ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করছেন। বিশেষ করে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী নাছির উদ্দিন বলেন, এই সড়কের আশপাশে কিছু উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করতে গিয়ে বিপদে পড়ছে। চোখের সামনে শিক্ষার্থীদের বহন করা অটোরিকশা উল্টে পড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছর আগে শুনেছি সংস্কার হবে, কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু হয়নি।
দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার মো. আব্দুল কাদের বলেন, মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বড় বড় গর্ত রয়েছে। পান্নারপুল থেকে চৌমুহনীতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের এটাই অবস্থা। সড়কটি দেবিদ্বার এবং মুরাদনগরের মধ্যে অবস্থিত। তবে দুই উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের ফলে সংস্কারের কাজ হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেবিদ্বার উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সড়কটির কিছু অংশ দেবিদ্বারের ভেতর পড়লেও সংস্কারের আইডি অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে মুরাদনগর উপজেলার মধ্যে। তিনি জানান, শোনা যাচ্ছে সড়কটি সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ইতোমধ্যে পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়কটির সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদারও আসছেন, তবে বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক সপ্তাহের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ইলিয়টগঞ্জ থেকে নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর পর্যন্ত অংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় রয়েছে। অপরদিকে পান্নারপুল-নহলচৌমুহনী সড়কটি স্থানীয় সরকার বিভাগের। যদি স্থানীয় সরকার বিভাগের মুরাদনগর বা দেবিদ্বার উপজেলার সঙ্গে আলোচনা করা হয়, তাহলে বিস্তারিত জানা যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন