প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একদিনের বৃষ্টির ফলে দেশটির বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পাঁচটি শেডে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য বর্তমানে জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকেই বৃষ্টির ধারা চলমান রয়েছে এ অঞ্চলে। একটানা বৃষ্টির কারণে বেনাপোল বন্দরের ৩নং গেটের সামনে পাঁচটি শেডে আমদানিকৃত মালামাল জলাবদ্ধ অবস্থায় আছে। কিছু স্থানে হাঁটুপানি জমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পানি বের করার জন্য পাওয়ার পাম্প দিয়ে চেষ্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা ওই এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত বেনাপোল বন্দরে যদিও শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই শত শত কোটি টাকার মালামাল তলিয়ে যায়।
বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা গণমাধ্যমকে বলেন, "স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলা সত্ত্বেও, বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এর ফলে প্রায় শতাধিক আমদানিকারক এখন পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছে।" তিনি আরও জানান, বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণও প্রদান করছে না। পানি নিষ্কাশনের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও এটি কার্যকর না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত বর্ষাকালে কমিটির কিছু সদস্যের তৎপরতা দুই বা এক দুই দিনের বেশি ছিল না।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আলহাজ মতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে জানান, "পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।" তিনি অভিযোগ করেন, বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বন্দরের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া নির্মিত হওয়ার ফলেই বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সমাধানের দিকে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত কিছু করা হচ্ছে না।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে। যারা ব্যবসায়ী তারা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ 제출 করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই দুর্দশার মধ্যে ব্যবসায়ীদের লোকসানের শিকার হতে হচ্ছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজি রতন জানিয়েছেন, "বৃষ্টির কারণে বেশকিছু শেডে মালামাল ভিজে গেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে সমস্যা সমাধানের আশা করছেন তিনি।" জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন