প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছে। এ বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে প্রবল বৃষ্টির ফলে শহরটির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও পার্ক। অসংখ্য যানবাহনও ভেসে গেছে।
শুক্রবার তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে ১৯৪২ সালের পর দেশটিতে এমন ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেনি।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তাম্বুলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতের সম্মিলিত পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই শহরে প্রবল বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সারিয়ার এলাকায় একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বন্যায় আরো তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ঝড়ের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে।
বন্যার পানিতে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়ে গেছে। সড়ক ও পার্কও পানিতে ডুবে গেছে। স্রোতে ভেসে যাওয়া অনেক যানবাহন পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে গিয়ে এক জায়গায় স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
শুক্রবার লাশ উদ্ধারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিফতচি সারিয়ার এলাকার আয়াজাগা এলাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বন্যার পর চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি আরো জানান, বন্যাসংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে ৯ হাজার ৮৫০টি অভিযোগ ও প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় ইস্তাম্বুলে ৪৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম।
নদী ও জলপথের কাছাকাছি অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বন্যার তীব্রতা বেড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।
আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়া শহরে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনটির সভাপতিত্ব করবেন মুরাত কুরুম। বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের যোগসূত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি অপরিহার্য।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
এআরবি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন