প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টা হামলার ঘটনার পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও "কঠোরভাবে আঘাত" করার কথা জানিয়েছিলেন। এর ঠিক পরবর্তী সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর নতুন হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় রাতের হামলায় তারা ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। তাদের এক্সে প্রকাশিত পোস্টে হামলার ভিডিও সংকলন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল "হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করা।"
লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণস্থল, নৌ সক্ষমতা এবং ইরানের উপকূলজুড়ে সামরিক রসদের অবকাঠামো। সেন্টকম বলেছে, "সর্বশেষ এই হামলাগুলো ইরানে আগের রাতের সফল আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার পরবর্তী পদক্ষেপ।"
এই হামলার পর, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, "গতকাল জাহাজগুলোতে ইরানের বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এটি করা হয়েছে। যদি এমনটা আবারও ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে!"
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী শহর সিরিক এবং বন্দর আব্বাসসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। উপকূলীয় শহর কোনারাক ও চাবাহারের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্দর আব্বাসে আটটি বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে। এছাড়াও সিরিক ও জাস্ক বন্দরে দুটি করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোও ইরানি হামলার খবর জানিয়েছে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণ, কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবর এবং কাতারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে "আমেরিকার চুক্তিভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক জবাবের প্রথম ধাপ" উল্লেখ করে তারা সতর্ক করেছে, "আগ্রাসন" অব্যাহত থাকলে অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানো হবে।
এদিকে বুধবার, ডোনাল্ড ট্রাম্প "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ" বলে মন্তব্য করেছেন, যার ফলে এশীয় বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আবার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, সিস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশের ইরানশাহর বিমানবন্দরের একটি ভবন ও রানওয়েতে বিস্ফোরণের ফলস্বরূপ শহরের আকাশে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
সিস্তান ও বেলুচেস্তানের ডেপুটি গভর্নর এবং ইরানশাহর গভর্নরের বরাত দিয়ে আইআরএনএ নিশ্চিত করে যে, শহরের বিমানবন্দরের ওপর হামলা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন।
আবু মুসা দ্বীপেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। তবে চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বুশেহরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের একটি ব্যারাক ও দপ্তরে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, চাবাহারে বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে দুটি দ্রুত সচল করা হয়েছে এবং তৃতীয়টি শিগগিরই সচল হবে। বুধবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা তাদের খুব শক্তভাবে আঘাত করেছি। আমি বলব, আমরা তাদের ২০ গুণ বেশি আঘাত করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "তারা যতবার আমাদের ওপর হামলা করে, আমরা তাদের ওপর ২০ গুণ বেশি আঘাত হানি।" তিনি দাবি করেন, ইরান "কিছুক্ষণ আগে ফোন করেছিল" এবং তারা "খুবই মরিয়া হয়ে" একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।
"আমি জানি না তারা কোনো চুক্তি করার যোগ্য কি না- সমস্যা হলো, আমি জানি না তারা চুক্তির সম্মান রাখবে কি না," ট্রাম্প আরও বলেন।
মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকারে হামলার জবাবে তারা "শক্তিশালী" হামলা চালিয়েছে। গত ১৭ই জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার পর অগ্রগতির জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে সোমবার আর বুধবার পর্যন্ত সময়টি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাতের। ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, গত মাসে ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন "ভেঙে গেছে"। তিনি যোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র "গত রাতে তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত করেছে" এবং "সম্ভবত আজ রাতেও তাদের কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।"
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমি তাদের সাথে আর কোনো লেনদেন করতে চাই না, তারা জঘন্য। আপনি জানেন জঘন্য কারা? তারা জঘন্য। তারা অসুস্থ মানসিকতার মানুষ।"
এরপর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেছেন, "আমরা অশ্লীলতার জবাব অশ্লীলতা দিয়ে দিই না, বরং কাজের মাধ্যমে জবাব দিই- নির্ভীকভাবে এবং বীরত্বের সাথে।"
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে করা চুক্তিতে ১৪টি পয়েন্ট ছিল, যার মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত ছিল- যার মধ্যে আলোচনা চালানোর জন্য নির্দেশনা ছিল। এছাড়াও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তও ছিল চুক্তিতে। যদিও আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা এখনও শেষ হয়নি, তবুও ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, আরও আলোচনা করা "সময়ের অপচয়" ছাড়া আর কিছুই নয়।
এটি উইলল প্রথম হামলার ঘটনা নয়। এর আগে ২৬শে জুন হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীকালে ২৭শে জুন একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটলে আবারও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। যদিও ওই মাসের শেষের দিকে উভয় পক্ষই "শান্ত থাকার" ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন