প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেছেন, প্রতিটি কবি রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। তবুও হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের মধ্যে একজন, যিনি শুধু সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রেই নয়, বরং রাষ্ট্রচিন্তা ও সমাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
হাসান হাফিজুর রহমানের সমাজভাবনা ও রাষ্ট্রচিন্তাকে জাতীয় পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এমন জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বরেণ্য কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক হাসান হাফিজুর রহমানের স্মরণসভায় তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবির কন্যা এষা হাসান। তিনি কবির ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক স্মৃতি এবং তার সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বিশিষ্ট কবি মজিদ মাহমুদ হাসান হাফিজুর রহমানের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাজগত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা বলেন, ইউরোপীয় রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়া, ধর্ম, ইতিহাস এবং সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে হাসান হাফিজুর রহমানের গভীর অনুধাবন তার চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করে। তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে দূরদর্শী ভাবনা তাকে একটি স্বতন্ত্র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে হাসান হাফিজুর রহমানের বুদ্ধিবৃত্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সংস্কৃতি সচিব জানান, কবির চিন্তা ও পরামর্শ তৎকালীন রাষ্ট্রীয় নীতি-ভাবনায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় ও কৃত্রিমতার প্রভাব ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। হাসান হাফিজুর রহমানের সময়ের যে সৃজনশীল, আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ ছিল, তা আমাদের জন্য আজও অনুকরণীয় বলে মনে হয়।
দেশের গবেষক, সাহিত্যিক এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হাসান হাফিজুর রহমানের রাষ্ট্রভাবনা, সাহিত্যদর্শন ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান নিয়ে আরও গবেষণা ও লেখালেখির প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর অনন্য সাহিত্যকীর্তি এবং চিন্তার উত্তরাধিকারকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন