প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পুলিশ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় ডাকাতদের জন্য ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার, দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোররাতে হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী মৌজার সাবেক সংসদ সদস্য মো. মোতাহার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে পাটগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুরের তরফ কামাল গ্রামের মো. সোহরাব হোসেন (৪০), বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিংগলাকাঠী গ্রামের মো. আলামিন (৩৪), পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাটগাড়ি গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম (৪৭) এবং রংপুরের কোতোয়ালী থানার রামপুরা এলাকার প্রাইভেটকার চালক মো. মাসুদ পারভেজ মাসুদ (৩৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে হাতীবান্ধা থানার এসআই মো. জাকিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফিরছিল। পথে দক্ষিণ গড্ডিমারী এলাকায় সাবেক এমপি মো. মোতাহার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে মহাসড়কে একটি সাদা প্রাইভেটকার সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে এমন তথ্য পায় পুলিশ।
পুলিশের গাড়িটি প্রাইভেটকারটির কাছে থামার পর চালকের আসনে একজনকে দেখতে পায় তারা। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে আরও ৭-৮ জন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করে চারজনকে হাতেনাতে আটক করতে পারলেও বাকিরা পালাতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে প্রাইভেটকারটিতে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—১টি ব্যাটারিচালিত গ্রাইন্ডিং মেশিন, ১টি ড্রিল মেশিন, ৮টি ড্রিল বিট, ৪টি গ্রাইন্ডিং ব্লেড, ৪টি স্লাইড রেঞ্চ, ১টি প্লাস, ২টি ক্যাবল কাটার প্লাস, ৩টি স্ক্রু ড্রাইভার, ২টি হ্যাক্স ব্লেড, ২টি লোহার ছেনি এবং ১৫টি বিভিন্ন ধরনের চাবি, ২টি কসটেপ, ১টি ছোরা এবং ১টি লোহার তৈরি দা।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা গেছে যে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, মানবপাচার ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টও মুলতবি রয়েছে। তারা একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য।
এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৮, ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ২১/১৩ আগস্ট) দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন