প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে দিনেদুপুরের বেলায় প্রকাশ্যে একটি ঘটনা ঘটে যেখানে লোকমান হোসেন (৪৫) নামের একজন ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। এই দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটেছে রোববার (৭ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে।
দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলির ফলে ওই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি নিয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফুটেজে দুপুর ২টা ৩ মিনিটের দিকে দেখা যায়, রাস্তায় চলাচলরত পথচারী ও রিকশাচালকরা হঠাৎ করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, এবং তারা বাসের পেছনের দিকে তাকাতে শুরু করেন। মূলত বাসের আড়ালে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং ছিনতাইয়ের পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে আহত লোকমান হোসেন একজন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী।
ওসি আরও বলেন, ‘তিনি মতিঝিল শাপলা চত্বরের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, এবং তার সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে আনুমানিক ১৭ লাখ টাকা ছিল। ওই ব্যবসায়ীর হাতের কনুইয়ের নিচে একটি এবং হাঁটুর নিচে দুটি গুলি লেগেছে। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। আমরা তদন্তের মাধ্যমে দেখছি কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এই ঘটনায় মন্তব্য করে বলেন, ‘ছয়জন দুষ্কৃতকারী তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে লোকমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর তারা দ্রুত টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ইতোমধ্যেই এই ঘটনায় কাজ শুরু করেছে, এবং জড়িতদের ধরার জন্য সাঁড়াশি অভিযান চলছে।’
গোয়েন্দা সূত্রের প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিনতাই এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জড়িত থাকতে পারে। ভুক্তভোগীর কাছে বিশাল অঙ্কের টাকা থাকার তথ্য আগে থেকেই অপরাধীদের কাছে পৌঁছেছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করা, এবং ভিকটিমের গতিবিধি পর্যালোচনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া, ঘটনার পর থেকে মতিঝিল এবং এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন