প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষকদের নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হলে বা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হলে, এটি শুধুমাত্র শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ। তিনি বলেন, চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে টাকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে। এমনকি, নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেন যাতে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলা যায়। কিন্তু, যেসব শিক্ষকদের ঘুষ দিতে হয় নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলে নিতে অথবা অফিসে অফিসে ঘুরতে হয়, সেটি আমাদের জাতিগত দীনতা-হীনতার প্রতিফলন। তিনি জানান, আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর, তথা দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডের মাধ্যমে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন। এই দুটি ফান্ডের একটি হলো ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং অন্যটি ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই ফান্ডের মাধ্যমে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন যে, শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার উদ্যোগ ‘শিক্ষা উপবৃত্তি এবং নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ’ বিশ্বে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে মরহুমা খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন। অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরি জীবন শেষে শিক্ষকদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে টাকা উত্তোলনের জন্য। তবে, বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, অবসরকালীন সুবিধার অর্থ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যাতে সহজে পৌঁছায়, সেই প্রক্রিয়াটি চালু করার কাজটি এত সহজ ছিল না। তিনি বলেন, পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যে ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে জাতির স্বার্থরক্ষায় গঠিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাল ইনডেক্স তৈরি করে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে দুটি তহবিলকে প্রায় দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এসব কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য সুবিধার অর্থ সহজে পৌঁছানোর বর্তমান প্রক্রিয়া তৈরি করা সহজ ছিল না। তবুও, অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তাদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এর আগে, শনিবার সকালেও রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ প্রদানের অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন করেন। দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধে সরকার এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে এবং দেশের ৬৪ জেলায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে এ অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন