প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশিদের জন্য আগামী রোববার (২৮ জুন) থেকে আবার ভারতের ভ্রমণ ভিসা চালু হচ্ছে। এই দিন থেকেই ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা।
এই ভিসা চালুর সুখবর পাওয়ার পর কলকাতার ব্যবসায়ীরা একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ানোর মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
রোববার (২৭ জুন) কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো একটি বৈঠকে বসেছিল।
মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বৈঠকে আলোচনা করেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের কীভাবে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া যেতে পারে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকে কীভাবে জোরদার করা যায় এবং কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও পরিকাঠামোর বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পেয়েছে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশিরা গত দুই বছর আগে কলকাতায় এসে যে শহরটি দেখেছিলেন, এবারও যেন সেই পরিচিত কলকাতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। পর্যটকরা যেন কোনো ভয় বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই কলকাতায় আসতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য।
বছর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ ভিসা বন্ধ থাকায় কলকাতার নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিটসহ পর্যটননির্ভর এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বেচাকেনা কমে যাওয়ার কারণে অনেককে ঋণ নিতে বাধ্য হতে হয়েছে, কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন এবং আবার অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
এখন ভিসা চালুর সুখবর পাওয়ায় নিউ মার্কেট এলাকায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ী, পোশাক বিক্রেতা, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, মোবাইল সিম বিক্রেতা থেকে শুরু করে হাতের তৈরি রিকশাচালকরাও আশাবাদী যে এই এলাকা আবার জমজমাট হবে।
সোহাগ পরিবহনের কর্ণধার এবং মারকুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ সাহা বলেন, গত দুই বছর আমরা সৌজন্যভাবের সঙ্গে খুব কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলাম। এখন সেই পরিস্থিতি কাটার আশা বোধ করছি। বাংলাদেশি পর্যটকদের সঙ্গে আবার আগের মতো সম্পর্ক তৈরি করে নিউ মার্কেটকে আবার পুরনো অবস্থানে ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।
গ্রিন লাইনের কর্ণধার সঞ্জয় মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই বছর ধরে ব্যবসা প্রায় বন্ধ ছিল। শুধুমাত্র মেডিকেল ভিসার ভিত্তিতে পরিবহন ব্যবসা চলানো সম্ভব নয়। মারকুইস স্ট্রিট একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি আশা করছেন, আবার সেই সুদিন ফিরে আসবে।
কটন গ্যালারির কর্ণধার কামরুদ্দিন মালিকের মন্তব্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে নিউ মার্কেটের ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক হলে ব্যবসায় আবার গতি আসবে।
নিউ মার্কেটের গ্লোব ফার্মেসির কর্মী কুসুম বলেন, বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর আমাদের ব্যবসার বড় অংশ নির্ভর করে। বাংলাদেশিরা মূলত ওষুধ, কসমেটিক্স ও ড্রাই ফ্রুটস কিনতে কলকাতায় আসেন। ভিসা চালুর খবরে আমরা খুবই খুশি।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ব্যবসা প্রায় থমকে গিয়েছিল। নিউ মার্কেটের ব্যবসা কমেছিল প্রায় ৬০ শতাংশ এবং বড়বাজারেও এর প্রভাব পড়েছিল। এই কারণে, ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, কলকাতার পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রেও নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। এখন কলকাতার ব্যবসায়ীরা সেই সুদিন ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন