প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথটি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির খসড়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে।
বুধবার, ৫ আগস্ট, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই তথ্য জানালেন। তিনি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কোনো পক্ষ যদি এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি না করে, তাহলে শিগগিরই একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হতে পারে। তবে সে বিষয়ে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে অনুযায়ী, তার মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এখনও বেশ কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হলেও এটি কার্যকর করতে এক পক্ষ বা উভয় পক্ষকেই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার করা এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর আগে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্ব আরও জোরদার হওয়ার কোনো শর্ত ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের শর্ত আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যও এটি ইতিবাচক নয়।
অন্যদিকে, তেহরান বলছে, হরমুজের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকবে। তারা দাবি করছে, যুদ্ধের আগের মতো এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে পরিচালিত হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ইরান ও ওমানের আলোচকরা প্রণালিটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন। এখন এটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইয়ের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের একটি অস্থায়ী সমাধানের পথ খুলে দেবে। তারা দাবি করেছেন, এটি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ধারাবাহিক কার্যক্রম। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করা এবং প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান চুক্তি কার্যকর হলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্থগিত আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এদিকে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চুক্তি সম্পর্কিত বলেছেন, ‘এটা হতে পারে। হয়তো আগামীকাল বা পরশু। এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই চুক্তি প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ওমান। ভৌগোলিকভাবে জলপথটির পাশের অবস্থান এবং ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সুসম্পর্কের কারণে সংকট নিরসনে দেশটি শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন